Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

পুরো ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে দাঁড়িয়ে গেল !

0

গতকাল এশা এবং তারাবীর নামাজে অভাবনীয় এক ঘটনা ঘটেছে । রাত সোয়া আটটার দিকে আমরা নামাজে দাঁড়িয়েছি । আমরা মানে আমি, আব্বা, তেহজীব আর আলভীরা ।

এমন সময় আমার স্ত্রী বলল, দাঁড়াও দাঁড়াও, আমিও পড়ব । ৫ মিনিট ওয়েট করো ।

আমি বললাম, ঠিক আছে । ওযু করে তাড়াতাড়ি আসো ।

কিছুক্ষণ পরই দেখি জায়েদা কিছু একটা বলতে এসেছে ।
-জায়েদা , তুমি কিছু বলবা ?
-জি স্যার, আমতা আমতা করে বলল !
-বলো, তাড়াতাড়ি বলো ।
-স্যার, আমি কি আফনাদের সাথে নামাজ পড়তে পারমু ?

এবার আমি একটু ওর দিকে তাকালাম । দেখলাম হিজাব পরা, মাত্রই ওযু করে এসেছে ।

যে কথা আমি ওকে কোনদিন জিজ্ঞেস করিনি হঠাৎ সেই প্রশ্নটা করে বসলাম
-তুমি কি নামাজ পড়তে পারো ?
-স্যার একটু একটু পারি ।
-একটু একটু মানে ?
-মানে স্যার, সুরা গুলা সব মুখস্থ না । মাঝে মাঝে আউলাইয়া যায় !
-কয়টা সুরা মুখস্থ তোমার ?
মনে হলো সে প্রশ্নটাতে লজ্জা পেয়েছে । একটু ইতস্ত বোধ করছে ।
-জায়েদা , তুমি কয়টা সুরা মুখস্থ জানো ?
-স্যার এই ধরেন আলহামদুলিল্লাহ, আলামতারা আর কুলআউযুবিরাব্বীন নাস ।
-মাশাআল্লাহ ! ভালো তো । ফাতেহা , ফিল আর নাস ! খুব ভালো । নামাজ পড়ার জন্য তো যথেষ্ট !

আমাদের কথার মাঝেই রুমি একটা জায়নামাজ হাতে আসল । রুমি জায়েদার মেয়ে । মা-মেয়ে আমাদের বাসায় আছে অনেক বছর ।

রুমি তুইও কি নামাজ পড়বি ?
-জী আংকেল !
-তোর কয়টা সুরা মুখস্থ ?
-আংকেল ১১ টা, হাসি দিয়ে বলল রুমি ।
-মাশাআল্লাহ ।

রুমি কে নামাজ আর আরবী শেখানোতে আমার কোনো কৃতিত্ব নেই । কৃতিত্ব সব আমার স্ত্রীর । আমার বাসায় যখন আলী আকবর হুজুরকে বাচ্চাদের কোরআন শেখানোর দায়িত্ব দেয়া হয়, তখন আমার স্ত্রী রুমিকেও হুজুরের কাছে পড়তে দেয় । হুজুর খুশী হন তার স্টুডেন্ট সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় । স্টুডেন্ট বাড়া মানে তো টাকাও বাড়া !

আমি আমার স্ত্রীকে ডাক দিই-কই তুমি ? নামাজের দেরী হয়ে যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি আসো !

সে নামাজের পোশাকে ছুটতে ছুটতে আসল ।

আমি আমার স্ত্রীকে জায়েদা আর রুমিকে দেখিয়ে বললাম, দেখো, দলে দলে সবাই কল্যাণের দিকে আসছে ।

সে হেসে উঠল । বুঝলাম-এটা তারই প্ল্যান !

আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, শোনো , জায়েদাকে রমজান মাসে আমি একটা এসাইনমেন্ট দিচ্ছি । সে সুরা এখলাস এবং সুরা কাওসার মুখস্থ করবে । এবং তাকে শিখাবে রুমি । যদি সে মুখস্থ করতে পারে তবে এবার ঈদের বোনাস হবে ডাবল !

রুমি বলল, আংকেল আমি শিখাইতে পারব ।

আমি জায়েদা কে বললাম, কি মুখস্থ করতে পারবা তো ?
হাকিমপুরি জর্দা দিয়ে পান খাওয়া লাল মুখ থেকে বেশ আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ল-পারমু স্যার !

নামাজের জন্য আব্বা তাড়া দিলে আমি জায়েদাকে বললাম, তোমরা হাল্কা একটা পর্দা দাও । তারপর পর্দার পেছনে দাঁড়াও ।

ওরা তাই করল ।

আব্বা একামত দিতে শুরু করলেন ।

পুরো ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে দাঁড়িয়ে গেল !

Leave a Reply