Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

আমার কাছে মনে হলো আমি জিন দেখছি !

2+

মাঝ রাতে আযানের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেল । ভাবলাম ফজরের সময় হয়ে গেছে তাই তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে সময় দেখতে মেবাইলে তাকিয়ে দেখি তখন তিনটা বাজে ! 

এই সময়ে কে আযান দিচ্ছে ? 
চোখ কচলাতে কচলাতে আযানের উৎস খুঁজতে চেষ্টা করলাম । মনে হলো আমাদের ফ্যামিলি লিবিং এর ট্যারেস থেকে আযানের শব্দ আসছে । 

ধীর পায়ে দরজা খুলে বের হয়ে তো আমার কাছে মনে হলো আমি জিন দেখছি । কেউ একজন ট্যারেস এ দাঁড়িয়ে আযান দিচ্ছে । আমি ধরে নিই-নির্ঘাত কোনো জিনের কাজ । 

কিছুটা ভয়ও পাচ্ছিলাম । সুরা এখলাস পড়ে বুকে ফুঁক দিলাম । তারপর আশ্চর্য্য হয়ে লক্ষ্য করলাম- যে আযান দিচ্ছে তার গলা অবিকল মহিলাদের মতো । কী সাংঘাতিক ব্যাপার- কোনো মহিলা জিন হবে- ‘জিনে মুমিনা’ ! 

আমি রুমে এসে আমার স্ত্রীকে ডেকে তুললাম
-এই শুনছ, তাড়াতাড়ি উঠো । আমাদের ট্যারেসে এক ‘জিনে মুমিনা’ আযান দিচ্ছে ! 
-কী আন্দাজী কথা বলো ? ফাইজলামী করতেছ, না ! আমার স্ত্রী বিরক্তি নিয়ে বলে । 
-খোদার কসম । ফাইজলামী না । তুমি উঠো…। 

আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্ধকারের মাঝে ফ্যামিলি লিভিং এ গেলাম । তখনো আযানের শব্দ আসছে । 
-দেখো, স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে । আমার স্ত্রীকে ট্যারেসের দিকে দেখালাম । 

সে দ্রুত ট্যারেসের লাইট জ্বালিয়ে দিল । 
এমন সময় ট্যারেস থেকে আমাদের গৃহকর্মী জায়েদা বেরিয়ে এলো । 
-এই তুই ট্যারেসে এতো রাতে কী করতেছস ,জায়েদা ? আমার স্ত্রী বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করে । 
-কিছুনা আন্টি । আযান দিতাছি । 
-আযান দিতাছস মানে ? কি পাগলামী শুরু করছস ! 
-পাগলামী না আন্টি । নাজমুল (বিল্ডিং এর ইলেকট্রিশিয়ান) বিকালে বলছে আজকে রাত তিনটায় যে যেইখানে আছে ওইখান থাইকা আযান দিতে । তাইলে পরে করোনা আমাগো দেশ থাইকা ভাগবো !!! 

আমি জায়েদার কথা শুনে রীতিমতো তখন অট্র হাসিতে ফেটে পড়ছি । আমার হাসি দেখে আমরা স্ত্রীও হাসতে শুরু করলো । এমন শব্দ করে আমরা হাসছি যেকোনো মুহূর্তে আব্বা উঠে যেতে পারেন । তবু হাসি থামাতে পারছিনা । হাসতে হাসতে পেট ব্যথা করতে শুরু করল । 

কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম জায়েদা চুপচাপ গিয়ে শুয়ে পড়ছে ওর রুমে । 

জায়েদা, জায়েদা তুমি কী ঘুমিয়ে পড়ছ ? আমি একটু শব্দ করে ডাক দিলাম । 
-না, স্যার । ঘুমাই নাই । ঘুমানোর চেষ্টা করতেছি । 
-শোনো, ঘুমানোর চেষ্টা না করে বরং দুরাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ো । সারাদেশে তোমাদের ওই জামাতে আযানের চেয়ে অন্ধকার ঘরে দুরাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ অনেক কাজে দেবে । 

আর শোনো, এইসব দারুণ দারুণ আইডিয়া গুলো দিয়া মাঝে মাঝে আমাদেরকে একটু প্রাণ খুলে হাসার সুযোগ করে দিও । বহুদিন হাসার কোনো উপলক্ষ্য পাইনা । বলে আবার হাসতে শুরু করলাম আমি । 

জায়েদা উঠে আসল । কিছুটা লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, স্যার আমরা দোষ নাই । আসলে নাজমুল, ওই ব্যাটা…। 
-থাক থাক । হইছে । 

জায়েদা ওযু করতে বাথরুমে ঢুকে পড়লে আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, চলো আমরাও নামাজ পড়ে নিই । দেশের জন্য একটু দোয়া করি । দেশের মানুষের জন্য একটু দোয়া করি ।

Leave a Reply