Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

আম্মা এবার অভিমানের সুরে বলেন, বুঝবায় রে বাবা , বুঝবায় যেদিন কান্দিবার কেউ থাকতনায়…!

0

বউ বাচ্চা নিয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ফিরব । বাসা থেকে বের হবার আধা ঘন্টা আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে আম্মার কান্নাকাটি !

অবশ্য এ দৃশ্যতে আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি ! সিলেট থেকে ফেরার সময় আম্মার চোখে বন্যা নামবে এটা একটা রুটিন দৃশ্য যেন !

আম্মা তেহজীব আর আলভীরাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন !

নি:শব্দ কান্নার অবশ্য অদ্ভুত এক সৌন্দর্য আছে । আমার কাছে এই সুন্দর অসহ্য ঠেকে । আমি আম্মার চোখের পানি সহ্য করতে পারিনা ।

আমার বউ আম্মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, মা, ওউতো ২ মাস বাদে আবার আইমু , কান্দিওইন্না…!

আম্মা চোখ মুছার চেষ্টা করেন ।

এবার তেহজীব আর আলভীরা কে জড়িয়ে ধরে আম্মা বলেন, সুমি আমার কলিজারটুকরাগুনরে বকিওনা… এখন তো তারার দুষ্টামির বয়স…!

তারপর আমার দিকে এগিয়ে আসেন । আমার কপালে আলতু চুমু দিয়ে আম্মা নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করেন । কিন্তু তার চোখের বাধ তো থামবার নয় ।

আমি কিছুটা কপট বিরক্তির ভাব নিয়ে মাকে বলি, “সবসময় বাড়ীত তাকি যাইবার সময় আফনার ই অবস্থা দেখতে অয় । অতো কান্দিবার কিতা আছে । আমরা তো আবার আইয়ার…”

আম্মা এবার অভিমানের সুরে বলেন, বুঝবায় রে বাবা , বুঝবায় যেদিন কান্দিবার কেউ থাকতনায়…!

আম্মা গেইট ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন , আমাদের গাড়ী সামনে আগায় … । যতটা সময় গাড়ী চোখের সীমায় থাকে আম্মা ঠায় দাড়িয়ে থাকেন গেইটের সামনে… আম্মার চোখ বেয়ে অঝরে পড়ে ভালোবাসার জল…!

পুনশ্চ: আম্মা না ফেরার দেশে চলে গেছেন প্রায় আড়াই বছর । এখনো নানা কারনে সিলেট আসা যাওয়া হয় । আমি বাসা থেকে বের হবার পর দু-একবার পেছন ফিরে তাকাই । সেখানে চোখ ভরা জল নিয়ে গেটের মুখে আর কেউ দাঁড়িয়ে থাকে না এখন !

মায়েরা বেঁচে থাকতে যতটা থাকেন, তারচেয়ে বেশি থাকেন যখন থাকেননা । সব মায়েদের জন্য এক আকাশ ভালোবাসা !

Leave a Reply