Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

আমরা আমাদের সন্তানদের কী শিক্ষা দেব : তানভীর শাহরিয়ার রিমন

0

সেদিন রাতে একটা রেস্টুরেন্ট এ বসে একটু আর্লি সেহরী করছিলাম । এমন সময় আমার সামনে পরিচিত কিছু বন্ধুজন আসলেন । কুশল বিনিময় হলো । তারপর তাদের একজন বললেন, ভাই, আপনার ফেসবুকে ইদানীং কিছু পোস্ট পড়েছি । মোস্ট অব দেম রিলেটেড উইথ ইথিকস, মোরালিটি…। আর ইউ এ প্রিচার অব ইসলাম ? 

তার প্রশ্ন শুনে আমি হাসলাম । পরিমিত হাসি । তারপর বললাম, আমি মানছি আমার অধিকাংশ পোস্টে জীবনের বিভিন্ন জায়গায়  নৈতিকতা, বিশ্বস্ততা এবং সততার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে । তার মানে এই নয় যে আমি একজন প্রিচার অব ইসলাম । আর সবচেয়ে বড় কথা হলো , আমার ওই জ্ঞান নেই যা দিয়ে আমি আপনার দাবীর পক্ষে সম্মতি জানাব । তবে আমি অবশ্যই জীবনে কিছু দর্শন লালন করি । এবং আমি আমার এই দর্শনের একজন প্রিচার তো বটেই ! নীতি, নৈতিকতা তো শুধু ইসলামে নয়, সব ধর্মেরই মূল কথা । 

তিনি বললেন, ভাই এসব বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে কী কোনো লাভ হয় ? 

-এবার আমি একটু নড়ে উঠলাম । আদতে কী লাভ হয় কিছু ? 

আমি তাকে এবার বলি, ভাইজান, আমরা আমাদের সন্তানদের কী শিক্ষা দেব ? অবিশ্বস্ত এবং অনিশ্চিত এক সময়ে তারা বেড়ে উঠছে । সোশ্যাল মিডিয়া বলেন বা অন্য মাধ্যম অধিকাংশ জায়গায় তো নেগেটিভিটির চর্চা হয় বেশি ।

আচ্ছা, আমাদের সমাজে এখন কী হচ্ছে । পরিবার গুলোতে কী হচ্ছে ? অনেক সম্পর্ক গুলো মেকী এবং লোক দেখানো বন্ধনের উপর কোনোরকম টিকে আছে । এবং আমরা হয়ত ভাবছি আমাদের সন্তানরা এসব কিছুই বুঝতে পারছেনা ! অথচ তারা অনেক বেশি বুদ্ধিমান । তারা এসব দেখছে , এবং নীরবে শিখছে-কী করে অবিশ্বস্ত হতে হয়, কী করে আধুনিকতার নামে ধর্মহীনতার দিকে ঝুকে পড়তে হয় । 

আমার দুটো সন্তান আছে । ছেলে এবং মেয়ে । তারা বড় হচ্ছে । আমি তাদের সামনে কী উদাহরণ রাখব ? আমি কি তাদেরকে অহংকারী, হিংসুটে, স্বার্থপর হওয়া শিখাব ? তাদেরকে কেবল টাকা কামানোর মেশিন হওয়ার এলগরিদম শিখাব ? আমি কী তাদেরকে অবিশ্বস্ততা শিক্ষা দেব ? 

নাকী শেখাব কী করে নিজের সঙ্গীনিকে ভালোবাসতে হয় ? কী করে সারাজীবন একজনকে ভালোবেসে তার প্রতি সৎ থেকে জীবন পার করতে হয় ? কী করে সৃষ্টিশীলতার চর্চা করতে হয় ? কী করে মায়া বাটতে হয় ? 

আমি নিশ্চিত ভাবে জানি, যদি আমি আমার স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল না হই, আমার স্ত্রীকে সম্মান না দিই তাহলে আমার ছেলে যখন বড় হয়ে বিয়ে করবে সেও তার স্ত্রীর প্রতি যত্নবান হবেনা, স্ত্রীকে সম্মান করবেনা । আমি যদি আমার স্ত্রীকে ঠকাই , অন্য দশজনের সাথে সম্পর্ক করি, আমার ভয় হয় , আমার মেয়ে যখন বড় হবে, আমার মেয়ের পার্টনারও তাকে ঠকাবে, অনৈতিক সম্পর্ক রাখবে বহুজনের সাথে । আমি তাই এসব থেকে দূরে থাকি এবং তরুণদের দূরে থাকতে পরামর্শ দিই । 

আমি তো আমার সন্তানদের সামনে আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি বলি, তাকে সম্মান দিয়ে কথা বলি । তার মানে কী এই যে আমার এবং আমার স্ত্রীর মান-অভিমান হয়না ? হয় । তখন আমরা সন্তানদের সামনে কখনো সেটা প্রকাশ করিনা । এগুলোই তো শিখাতে হবে বাচ্চাদের, নাকী ?


আর এখন যে ধরনের ভলাটাইল সময়, তাতে করে একজন দায়িত্ববান বাবা হিসাবে আমি আমাদের সন্তানদের এই শিক্ষাই তো দেব যাতে করে তারা হীরা আর কাচের পার্থক্য বুঝতে পারে । ইথিকস এবং মোরালিটিতে যাতে A+ পায় । তারা যেন সমস্ত এমবিগিউটি দূর করে স্পষ্ট এবং দৃঢ় চরিত্র তৈরী করতে সক্ষম হয় । সর্বোপরি যেন তারা ভালো মানুষ হয় ! 

আমার কথা শেষ হলে তিনি বললেন, ক্যারি অন ব্রো । এন্ড কিপ স্প্রেডিং দিস ফিলোসফী…।

এবার আমি সহাস্যে বললাম, এটা তো একা পারবনা । আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি তবেই সম্ভব হবে । তিনি এবার এগিয়ে এসে আমার হাতটা ধরলেন । আমি অনেক জোর পেলাম । এরকম অসংখ্য হাত ধরার আশায় হাত বাড়িয়ে অধির হয়ে বসে আছি আমি…! 

Leave a Reply