Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

কৃতজ্ঞতাবোধের শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রী লাগেনা ।

1+

আলহামদুলিল্লাহ, ব্লাড ডোনেট করে জন্মদিন উদযাপন করলাম ! যাকে রক্ত দিয়েছি তিনি ৮০ বছর বয়সি একজন কভিড পেশেন্ট । কভিড অনেক কিছুই শিখিয়েছে এবার , তার মাঝে বড় শিক্ষা হলো অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করা আর যতটা সম্ভব দোয়ার থলিটা ভরা । ভীষণ অনিশ্চিত জীবনের শেষ বাশি বেজে গেলে ওই থলিটাই সাথে যাবে, আর কিছুনা ।

বহু বছর আগে আমার পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক ইলেকট্রিক কনট্রাক্টর বাহার কাতার থেকে কমেন্টে যে দোয়া পাঠিয়েছে, বলতে পারেন এটাই এবারের জন্মদিনের পাওয়া অমূল্য এক অনুভূতি ।

Processed with MOLDIV

২০১০ সালে বয়সে তরুণ ইলেকট্রিশিয়ান বাহারের কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং নেতৃত্ব গুণ দেখে তাকে ডেকে বলেছিলাম, তুমি তো দারুণ কাজ করো । তুমি তো নিজেই একজন ঠিকাদার হতে পারো ।

সে খুশিতে চোখে জল নিয়ে বলেছিল স্যার, গরীব মানুষ, টাকা পয়সা নাই । লোকজনের খোরাকী দিমু কেমনে ? কম করে হইলেও তো ২০হাজার টাকা পুন্জি লাগব ।

তাকে বলেছিলাম যদি তুমি অন্য কনট্রাক্টর থেকে বর্গফুট প্রতি ১০ টাকা রেট কম নাও তাহলে আমরা কোম্পানী থেকে তোমাকে ২০ হাজার টাকা এডভান্স দেব । পারবা কাজ চালাতে ? দেখো, যদি পার, তাহলে কিন্তু মিস্ত্রী থেকে ঠিকাদার হয়ে গেলে !

বাহার ঠিকই ঠিকাদার হয়ে গেল । তাকে পরীক্ষামূলক ভাবে ২০ হাজার বর্গফুটের একটি ছোট প্রকল্পের কাজ দিলাম । প্রকল্পটি সে সফল ভাবে হস্তান্তর করল ।

তারপর সে বিভিন্ন জায়গায় কাজ পেল । একসময় বড় ঠিকাদার হয়ে কাতার চলে গেল । সেটা ২০১৫ সালের কথা । তারপর আর আমার সাথে যোগাযোগ নেই ।

এবার হঠাৎ করে আমার ফেসবুক পোস্টে তার কমেন্ট পড়ে আমি ভীষণ আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি । আমি ক্ষুদ্র মানুষ । আমার ক্ষুদ্র গন্ডিতে জীবনে নি:স্বার্থ ভাবে বহু মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেছি । কেবল ব্লু কলার নয়, বহু হোয়াইট কলার পিপোলদেরও সুযোগ দিয়েছি । তাদের উপকার করেছি ।

বিশ্বাস করুন, গরীব, দরীদ্র মানুষ যাদের উপহার করেছি তারা সেটা মনে রেখেছে আজীবন । কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী বহুজন সেসব মনে রাখেনি । এবং এখনো অনেকে মনে রাখেনা । একটু স্বার্থের হেরফের হলেই তারা যে উপকৃত হয়েছে আমার মাধ্যমে, সেটা ভুলে যায় ।

অথচ আমার জন্য যারা জীবনে হাটু পানিতে নেমেছে আমি সবসময় তাদের জন্য কোমর পানি এমনকি গলা পানিতে নেমেছি । নামার জন্য প্রস্তুত থেকেছি । বাহারের কমেন্টটা সত্যিই আমাকে আবেগতাড়িত করেছে । কৃতজ্ঞতাবোধ একটা মানুষকে বড় করে, এবং এই কৃতজ্ঞতাবোধের শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রী লাগেনা ।

আবেগ প্রবণ হয়ে অযাচিত অনেক কথা লিখে ফেললাম । ভুলভাল কিছু লিখে ফেললে ক্ষমা করবেন ।

সবশেষে জন্মদিনে যারা শুভকামনা জানিয়েছেন সবার প্রতি অনি:শেষ কৃতজ্ঞতা । আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধুমহল, আত্নীয়স্বজন, ফেসবুক বন্ধু, ফলোয়ার সকলের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত !

আমার নিয়ত চেষ্টা থাকবে নিজেকে মানুষ হিসাবে আরও বেশি উন্নত করার । সবার কাছে আবারো দোয়া চাই ।

Leave a Reply