Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

মানুষকে বাঁচানোর নেশাটা সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে ।

6+

শুক্রবারে ফজরের নামাজ পড়ে একটু আয়েশ করে ঘুমানোর অভ্যাস আমার । অফিস নেই, তাই কোনো কিছুতেই খুব তাড়া নেই ।

তবু আজ সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেলো চট্টগ্রাম ফিল্ড হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ডা: বিদ্যুৎ দার ফোনে । উনি বললেন আজই তাদের সব মানবিক এবং অসীম সাহসী ভলানটিয়াররা ফিল্ড হসপিটাল ছেড়ে যাচ্ছে । যদি সম্ভব হয় তবে যেন ওদেরকে ভালোবাসা জানাতে ১১টার দিকে ফৌজদার হাটে ফিল্ড হসপিটালে যাই ।

বের হবার জন্য তৈরী হতে হতে বুকটা হঠাৎই মুচড় দিয়ে উঠল । কভিড পরিস্থিতিতে ফিল্ড হসপিটালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একজন ক্ষুদ্র কন্ট্রিবিউটর হিসাবে দাদার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি । ভলানটিয়ারদের সাহস দেয়ার চেষ্টা করেছি ।

এপ্রিল-জুন এই সময়টায় করোনার আগ্রাসী বিস্তার ছিল চট্টগ্রামে । কোনো বেসরকারী হসপিটাল করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছিলনা তখনো, সরকারী হসপিটাল গুলোতে রোগী ধারনের জায়গা নেই, তখন এই বিদ্যুৎ দার নেতৃত্বে অসীম সাহসী সব ভলানটিয়াররা (এনজেলস) বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন । কভিডে নিশ্চিত আক্রান্ত হবার বিপদ কিংবা মৃত্যু ভয় কোনো কিছুই তাদের দমাতে পারেনি । টানা প্রায় চারমাস কোনো ধরনের আইসোলেশনে না গিয়ে, কভিড রোগীদের সেবা দেয়ার অনন্য এবং বিরল এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চট্টগ্রাম তথা পুরো বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন এই সম্মুখ সমরের যোদ্ধারা ।

আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি শুভ কাজের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে এই সময়টায় এই অসাধারণ মানুষগুলোর সাথে আমার আত্নার সম্পর্ক তৈরী হয়েছে বলে । এরা কেউ আমার রক্ত সম্পর্কীয় কেউ নয়, তারপরও মনে হয়-কত আপন !

তো সকালে ফিল্ড হসপিটালে পৌছে দেখি দাদা আমাকে চমকে দেয়ার আয়োজন করেছেন । প্রিয় ভলানটিয়ারদের সাথে গল্পশেষে দেখি দাদা আমাকে সম্মাননা জানানোর ব্যবস্থা করেছেন । সবাইকে ডেকে আবেগঘন সব কথা শেষে আমার হাতে ক্রেস্ট তুলে দিলেন দাদা । যদিও আমি মনে করি এই ক্রেস্ট পাওয়ার মতো কিছুই আমি করতে পারিনি নানা সীমাবদ্ধতার কারনে । বরং আমি বিদ্যুৎ দা, তার পুরো টীম এবং ফিল্ড হসপিটালের কাছে কৃতজ্ঞ । আহা ! কঠিন সেই সময়ে আমার অনুরোধে কত অসহায় মানুষকে যে তারা সহায়তা করেছেন, সেবা দিয়েছেন বিরামহীন, সেটা অতুলনীয় । আমার বহু সহকর্মীকে দাদা নিজে প্রেসক্রিপশান দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন । আমি, আমরা, পুরো চট্টগ্রামবাসী কৃতজ্ঞ এই মানবিক মানুষগুলোর কাছে ।

ক্রেস্ট তুলে দেন ডা: বিদ্যুৎ বড়ুয়া

আজ ফিল্ড হসপিটাল বন্ধ হচ্ছে । তবে দাদা বলেছেন এই হাসপাতাল সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে আরো বড় পরিসরে সব ধরনের রোগীদের সেবা দিতে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিতেই এই বিরতীতে যাচ্ছে । তবে তারা ফিরবেন ! মানুষের যে ভালোবাসা এবং দোয়া তারা কামিয়েছেন, মানুষকে বাঁচানোর যে নেশায় তারা আক্রান্ত হয়েছেন এই নেশাটা সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে ।

আমাদের আরো বিদ্যুৎ বড়ুয়া চাই । আরো মানবিক ভলানটিয়ার চাই । আরো মানবিক মানুষ চাই । পৃথিবীটা ঘৃণার নয় । পৃথিবীটা ভালোবাসার । আসুন, আমরা সবাই ভালোবাসায় বাঁচি ।

Leave a Reply