Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

পৃথিবীর সব খেলা সাঙ্গ হলে ফের দেখা হবে নিশ্চিত !

2+

গতকাল জরুরি কাজে অফিস যেতে হয়েছিল, ইফতারের ঠিক আগে আগে বাসায় ঢুকি । শাওয়ার করে ফ্রেশ হতেই আলভীরা আমাকে প্রশ্ন করে, ড্যাড, কালকে তুমি তোমার মাকে কী গিফ্ট করবা ?

আমি বললাম, তুমি তোমার মাকে কী গিফ্ট করবা?
-সারপ্রাইজ ! বলা যাবেনা !!

আচ্ছা, ঠিক আছে বলা যাবেনা বুঝলাম । কিন্তু আমি আমার মায়ের জন্য তার পছন্দের চিপস এবং নাটস নিয়ে এসেছি ! বলেই ওকে কিচেনে নিয়ে দেখালাম ।

সে খুশি হলো, কিন্তু বলল, ড্যাড, তুমি তোমার মায়ের জন্য একটা ফুল কিনে সিলেটে তার কবরে দিয়ে আসো ?

আমি কিছুক্ষন চুপ হয়ে ওকে দেখলাম । এবং কাছে টেনে নিলাম, মারে, আমার মায়ের জন্য কবরে আমার ফুল নিয়ে যাবার দরকার নেই । আমার মা সবসময় আমার মনে আছেন । আমি পাঁচবেলা নামাজে আমার মায়ের জন্য দোয়া করি । যখনই মনে পড়ে তখনই দোয়া করি ।

সে বলল, আচ্ছা বাবা বুঝছি ! বাই দ্যা ওয়ে, আমি কিন্তু মাকে সারপ্রাইজ দেব ।

-অফকোর্স দেবে । তোমার দাদু (দাদী) বেঁচে থাকতে প্রত্যেক মা দিবেসে আমি একটি নতুন শাড়ি কিনে দিতাম । আমি তোমার দাদুকে গিফ্ট করার উপলক্ষ খুঁজতাম ! এবার এই শাড়ির টাকাটা আমি কি করব ? তোমাকে কিছু কিনে দেব ?
-না, ড্যাড, তুমি এই টাকাটা একজন গরীব মানুষকে দিয়ে দাও । সে টাকাটা পেয়ে নিশ্চয়ই দাদুর জন্য অনেক দোয়া করবে-আলভীরা বেশ বোল্ড ভঙ্গিতে বলল !

আমি আবারো মন ভরা দোয়া নিয়ে মেয়েটাকে বুকে টেনে নিলাম !

এদিকে আজ ফজরের নামাজে আমাকে একটি জায়নামাজ ধরিয়ে দিয়ে তেহজীব বলল, বাবা, বলতো এই জায়নামাজটা আমাকে কে দিয়েছিল ?

-কে আবার ? তোমরা দাদু (দাদী) !
-হ্যা, দাদু হজ্জ্ব থেকে এটা আমার জন্য এনেছিল ।

সে আমাকে জায়নামাজটা দিয়ে বলল, বাবা, আজ তুমি এটাতে নামাজ পড়ো । কথাটা বলার সময় লক্ষ্য করলাম তার চোখ ছলছল করছে !

আমার মায়ের সবচেয়ে আদরের ছিল তেহজীব । আম্মা ছিলেন ওর বডি গার্ডের মতো । সারাক্ষণ ওর সাথে সাথে থাকতেন । ওর সমস্ত দুষ্টামীতে আম্মার ছিল ভালোবাসার প্রশ্রয় । আম্মার সামনে কোনোদিন তেহজীবকে টু শব্দটি পর্যন্ত করা যেতনা ।

আমি তেহজীবকে বললাম, তুমিই বরং এটাতে নামাজ পড়ো । এবং দাদুর জন্য বেশি বেশি দোয়া করো ।

বাবা, আমি দাদুর জন্য সবসময় দোয়া করি । তেহজীব স্পষ্ট উচ্চারণে পড়তে লাগল- রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা !

আমিও ওর সাথে শব্দ করে পড়তে লাগলাম । আমার স্ত্রী
এবং মেয়ে এসেও যোগ দিল ।

নামাজ শেষে দক্ষিনের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে আকাশে আম্মাকে খুঁজতে চেষ্টা করলাম । না, মেঘহীন আকাশে আম্মাকে তো দেখতে পেলাম না । বড় অদ্ভুত এই খেলাঘরে আম্মাকে এখন আর কোথাও খুঁজে পাইনা আমি ! মাঝে মাঝে বুকটা হাহাকার করে উঠে-নশ্বর এই পৃথিবীতে আম্মার সাথে আর দেখা হবেনা কোনোদিন ! আমাকে রিমু বলে এই জনমে কেউ ডাকবেনা আর-রিমু, রিমুরে…!

তবু অমল বিশ্বাসে প্রতীক্ষায় থাকি, পৃথিবীর সব খেলা সাঙ্গ হলে ফের দেখা হবে নিশ্চিত । সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত আবেগ এক করে সেদিন ডাকব-আম্মা, ও আম্মা !

Leave a Reply