Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

যে বিশ্বাস তোমার কর্মে প্রতিফলিত হয়না, ওটা বিশ্বাস না ! : তানভীর শাহরিয়ার রিমন

1+

আমার বাসার পাশে লিটল এশিয়া নামে একটা নতুন রেস্তোরার সফ্ট ওপেনিং শেষে ডিনার করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম, কাল রাতে। পথের মাঝেই এক ছোট ভাইয়ের সাথে দেখা । যার সার নেইম “ইসলাম” ।

কুশল বিনিময় শেষে জিজ্ঞেস করলাম তোমার রোজা কেমন যাচ্ছে ?

সে আমাকে অবাক করে দিয়ে উত্তর দিলো-ব্রো, আই ডোন্ট ফাস্ট ! একচুয়ালি আমি রোজা রাখতে পারিনা !!

আমি তার বিশাল শরীরের দিকে তাকালাম । নিয়মিত জিম করায় তার বাইসেপ ট্রাইসেপ দারুন শেপ নিয়েছে । আর চেস্টও মাশাআল্লাহ ৪২” চওড়া হবে ! এরকম সুঠাম দেহী কেউ রোজা রাখতে পারেনা , আমার বিশ্বাস হয়না ।

আমি একটু বিস্ময় নিয়ে তাকে বললাম, তোমার কী অালসারের সমস্যা আছে ? বা অন্যকোনো শারিরীক অসুবিধা ?

সে বলল, ডুড, আমি ফিট আছি ! বাট দ্যা থিং ইজ -অ্যাম ইন রুটিন ডায়েট। এভরি টু আওয়ারে আমাকে মিল নিতে হয় ! প্রোটিন সেক খেতে হয় । আরো কিছু সাপলিমেন্ট নিই !! বহু কষ্টে শরীর বানিয়েছি ব্রো, রোজা মাসে এটা নষ্ট করতে চাইনা !

আমি একটু বিরক্তি নিয়ে বললাম, তুমি কী ধর্ম বিশ্বাস করো ?

হ্যা, করি তো , তার সপ্রতিভ উত্তর !

তাহলে রোজা যে একটা ফরজ কাজ সেটা জানো ?

হ্যা জানি, আমি স্টাডি করেছি ।

মরতে হবে একদিন এটা মানো ?

ব্রো কীসব বলেন ! মানবনা কেন ? কেউ কী চীরজীবন বেঁচে থাকে ?

আমি বললাম, কখনো মেডিকেলে গিয়েছ ? অসুস্থ মানুষের বাঁচার আকুতি দেখেছ ?

সে একটু বিব্রত হচ্ছে মনে হলো । প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাচ্ছে বুঝতে পারছি ।

আমি বললাম, তোমার এই সুন্দর শরীরের আয়ু কতদিন হবে ? পাঁচ, দশ বড়জোর ২০ বছর ! তোমার বয়স এখন ৩০ বছর । ধরে নিলাম আরো ৪০ বছর বেঁচে থাকবে , কিংবা কালও মরে যেতে পারো অথবা পেতে পারো শতায়ু…

অথবা তুমি কঠিন অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকতে পারো বিছানায়, শিকার হতে পারো কোনো দূর্ঘটনার । প্রতিদিন কত সুস্থ সবল মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হচ্ছে । কতজন অকালে প্রাণ হারাচ্ছে ।

আমি তাকে বললাম, আমিও তো জিম করি, সুইমিং করি, গল্ফ খেলি । আবার পাঁচ ওয়াক্ত  নামাজ পড়ি, ১৪ বছর বয়স থেকে রোজা রাখি । সুস্থ থাকার চেষ্টা আমরা সবাই করি , কিন্তু যিনি আমাদের ফিট রাখেন তার কিছু হক তো আদায় করতে হবে, তাইনা ?

তাকে বলি, তুমি কি জানো, যেদিন আমরা মরে যাবে তার ১০ মিনিটের মাথায় আমাদের ব্রেন তার কার্যকারিতা হারাবে । চোখ সক্রিয় থাকবে ৩১ মিনিট । পা ৪ ঘন্টা মাত্র । চামড়া ৫ দিন আর হাড় ৩০ দিন । কিন্তু আমাদের আত্না বেঁচে থাকবে ।

তাই যে সময়টা জিমে দিচ্ছ, শরীর বানাচ্ছ ,সাপলিমেন্ট নিচ্ছ , নাও , অসুবিধা নাই । কিন্তু আত্নার একটু খবর নাও । যে আত্মা বেঁচে থাকবে অনন্তকাল তার যত্ন নাও । আত্নাকে কিছু সাপলিমেন্ট দাও…!

নামাজ পড়ো, কোরআন অর্থ সহ পড়ো , রোজারাখো , অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াও, তোমার ক্রিয়েটরকে চিনতে শিখো… । তুমি যে বললে ধর্মে বিশ্বাস করো , ওই বিশ্বাস তোমার ঠুনকো । যে বিশ্বাস তোমার কর্মে প্রতিফলিত হয়না, ওটা বিশ্বাস না !

আমার কথা শেষে সে কেঁদে ফেলল । বলল, ভাইয়া , আমার ফ্যামিলিতে কেউ রোজা রাখেনা । না বাবা, না মা… । বড় ভাই মাঝে মাঝে রাখে । আমাকে কেউ কোনোদিন এরকম করে বলেনি । আমি কোরআন পড়তে পারিনা । কারন আমাকে শিখানো হয়নি । বাবার টাকা আছে, যখন যা চেয়েছি পেয়েছি । কিন্তু বাবা আমাকে কখনো নামাজ রোজার কথা বলেননি ।

আমি বললাম, তোমার বাবার জবাবদিহীতা তো তাকে করতে হবে । তোমারটা তোমাকে । আজ থেকে চেষ্টা করো, একটু একটু করে । একদিনে পারবেনা । কিন্তু মন থেকে চাইলে ঠিকই একদিন পারবে ।

সে আমাকে বলল, ব্রো প্লিজ গিভ মি অ্যা হাগ ! তারপর প্রায় আধামিনিট আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখলো । তার চোখে অনুশোচনার জল ।

আমি তাকে আলগা করে আকাশের দিকে তাকালাম । পরিস্কার আকাশ । তেরো দিন বয়সি চাঁদ অদ্ভুত সুন্দর চাহনি নিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে । আমি সেই চাঁদের আলোতে হাটতে লাগলাম । আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে । মাঝে মাঝে আনন্দেও চোখ ঝাপসা হয়ে আসে…!

Leave a Reply