Tanvir Shahriar Rimon

Share on facebook
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

মাছের পেটটি কাটতেই দেখা গেল চকচক করছে একটি হীরার টুকরা !

0

এক নি:সন্তান হত দরিদ্র এবং প্রবীন ধর্মযাজক তার অতি দারিদ্রতার কারনে পথে পথে ভিক্ষাবৃত্তি করা শুরু করেন একসময় । তার এই ভিক্ষাবৃত্তির কাজটি পছন্দ হয়নি সে এলাকার এক সম্ভ্রান্ত ধনী ব্যক্তির । একদিন তিনি ধর্মযাজককে কাছে ডেকে তার দারিদ্রতার কাহিনী শুনলেন এবং আফসোস করলেন । তিনি ধর্মযাজকের প্রতি ভীষণ করুনা অনুভব করলেন এবং তাকে এক থলি ভর্তি করে স্বর্ণ মু্দ্রা উপহার দিলেন । তিনি বললেন, আশা করি এই স্বর্ণ মু্দ্রায় আপনার দারিদ্রতা কেটে যাবে এবং আপনাকে আর ভিক্ষা করতে হবেনা ।

ধর্মযাজক যারপরনাই খুশি হলেন এবং ওই ধনবান ব্যক্তিকে সীমাহীন কৃতজ্ঞতা জানালেন ।

ভিক্ষার থলি ফেলে দিয়ে স্বর্ণ মু্দ্রার থলি হাতে তিনি খুশি মনে তার বাড়ী ফিরে যেতে লাগলেন । পথের মাঝে তিনি কিছু বুভুক্ষ পথ শিশু দেখলেন , তারা তার কাছে হাত পাতলো সাহায্যের জন্য । কিন্তু ব্যাগ ভর্তি স্বর্ণমুদ্রা থাকা স্বত্বেও তিনি শিশু গুলোকে কোনো সাহায্য করলেননা । তিনি আপন মনে তার বাড়ীর পথে হাঁটতে থাকলেন । এরই মাঝে ঘটে গেল হঠাৎ এক ঘটনা । এক ছিছকে চোর তার হাতের স্বর্ণ মুদ্রার থলিটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে ভোঁ-দৌড় দিলো । তিনি পেছন পেছন দৌড়েও চোরকে ধরতে পারলেন না ।

পরেরদিন সেই ধনবান ব্যক্তিটি ধর্মযাজককে ভিক্ষার থলি হাতে রাস্তায় দেখে চরম বিরক্ত হলেন । তিনি ভাবলেন ধর্মযাজককে সারাজীবন পায়ের উপর পা তুলে কাটিয়ে দিতে পারার মতো ধন দিয়েছি , তাহলে কী কারনে তিনি আবার ভিক্ষার থলি হাতে বের হয়েছেন ! তিনি ধর্মযাজককে কাছে ডাকলেন এবং কারন জানতে চাইলেন । ধর্মযাজক ঘটনা খুলে বললেন । ঘটনা শুনে ধনবান ব্যবসায়ি খুব আফসোস করলেন , তার যাজকের উপর কেন জানি খুব মায়া হলো ! তিনি এবার ধর্মযাজককে একটা মহামূল্যবান ডায়মন্ড উপহার দিলেন । এবং বললেন, আশা করি এটার বিক্রী লব্দ অর্থ দিয়ে আপনার বাকী জীবন আয়েশে কেটে যাবে ।

ধর্মযাজক কৃতজ্ঞচিত্তে ডায়মন্ডটি গ্রহন করলেন এবং বাড়ী ফিরার জন্য রওয়ানা হলেন । পথের মধ্যে তার কাছে  এক অসুস্থ ব্যক্তি সাহায্যের জন্য হাত বাড়াল । তিনি দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেলেন । বাড়ীতে ফিরে তিনি মহামূল্যের ডায়মন্ডটি পানির কলসিতে ফেলে দিলেন । মনে মনে বললেন, কাল এটি বিক্রী করে নগদ অর্থ নিয়ে আসব । এসময় ঘরে তার স্ত্রী ছিলেন না । তিনি ক্লান্ত থাকায় খাটের উপর ঘুমিয়ে পড়লেন । কিছুক্ষন পর তার স্ত্রী ঘরে ফিরে দেখলেন যাজক ঘুমাচ্ছেন । তিনি তাকে না জাগিয়ে পানির কলসিটা নিয়ে পাশের নদীতে পানি আনতে গেলেন । তিনি পানি ভরতে যখন কলসিটি নদীতে ডুবালেন তখন ডায়মন্ডটি পানিতে ভেসে গেল । কিন্তু তিনি যেহেতু ডায়মন্ডের বিষয়টি জানতেন না তাই কিছুই বুঝতে পারলেন না ।

বাড়ীতে ফিরে দেখলেন যাজক জেগে গেছেন এবং তার হাতে কলসি দেখে কিছুটা বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি হীরাখন্ডটি কী করেছ ?

যাজক পত্নী বিস্ময় নিয়ে বললেন , কিসের হীরা ? আমিতো কলসিতে পানি ভরতে নদীতে গিয়েছিলাম ।

যাজক বললেন কলসির ভেতরে একটি হীরা রেখেছিলাম !

যাজক পত্নী পুরো পানি উঠোনে ঢেলে দেখলেন ওখানে কোনো হীরাখন্ড নেই । ধর্মযাজক মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়লেন ।

পরদিন সকালে সেই ধনবান ব্যক্তিটি আবার ভিক্ষার থলি হাতে ধর্মযাজককে দেখতে পেলেন এবং প্রচন্ড রাগ হয়ে তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করলেন । সব শুনে এবার তিনি ধর্মযাজককে একটি শতটাকার নোট গুঁজে দিলেন । যাজক মাত্র একশত টাকার নোটটি হাতে নিয়ে তার ভাগ্যকে পরিহাস করতে করতে বাড়ী ফিরছিল ।

পথের মাঝে সে দেখল এক জেলে একটা মাছ বিক্রির জন্য খুব চেষ্টা চালাচ্ছে । কিন্তু মাছটি অসুস্থ হওয়ায় সেই মাছটি কেউ কিনছিলনা । তো ধর্মযাজক জেলের কাছে যেতেই জেলে বলল, পুরোহিত , আপনি আমার মাছটি কিনে নেন । মাত্র একশ টাকা দিলে হবে । টাকাটা দিয়ে আমি আমার অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনব ।

জেলের কথা শুনে যাজকের মন কেমন করে উঠলো । তিনি ভাবলেন মাত্র একশ টাকা দিয়ে আর কীবা হবে । তিনি তাই শতটাকার নোটটি জেলেকে দিয়ে অসুস্থ মাছটি কিনে নিলেন ।

বাসায় ফিরে মাছটি তার স্ত্রীকে কুটতে দিলেন । মাছের পেটটি কাটতেই দেখা গেল চকচক করছে একটি হীরার টুকরা ।

যাজকের পত্নী যাজককে ডাক দিলেন । যাজক দৌড়ে গিয়ে হীরার টুকরা দেখে চিৎকার করতে থাকলেন-পেয়ে গেছি , পেয়ে গেছি !

এসময় যাজকের বাড়ীর পাশ দিয়েই যাচ্ছিল সেই ছিছকে চোরটা যে থলি ভর্তি স্বর্ণ মুদ্রা চুরি করেছিল । চোর ভাবল, যাজক হয়ত তাকে দেখে চিনতে পেরেছেন, তাই চিৎকার করছেন । ভয়ে চোর দৌড়ে যাজকের কাছে এসে তার পায়ে পড়ল । বলল, পুরোহিত , আমার ভুল হয়ে গেছে , আমাকে ক্ষমা করে দিন । আমি আপনার স্বর্ণ মু্দ্রা গুলো ফেরত দিয়ে দেব ।

সে কিছুক্ষনের মধ্যেই স্বর্ণমু্দ্রা গুলো যাজকের সামনে নিয়ে আসলো । ঘটনার আকস্মিকতায় ধর্মযাজক বোবা বনে গেলেন । তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কিভাবে তিনি তার হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণমু্দ্রা আর হীরা ফিরে পেলেন !

পুনশ্চ: এই রমজানে যাদের উপর যাকাত ফরজ তারা যদি পরিপূর্ন হিসাব করে তাদের যাকাত পরিশোধ করেন

তাদের সেই সম্পদ বরং বহুগুন বৃদ্ধি হয়ে তাদের কাছে ফিরে আসবে ,নিশ্চিত । দানে সম্পদ কমেনা, বাড়ে বহুগুনে…!

-তানভীর শাহরিয়ার রিমন 

Leave a Reply